বর্তমানে দুবাইয়ের সাধারণ ভিসাগুলো বন্ধ থাকার খবর আমরা সবাই জানি। তবুও আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন, প্রচুর মানুষ প্রতিদিন দুবাই যাচ্ছে। প্রশ্ন হলো, ভিসা বন্ধ থাকার পরেও তারা কীভাবে যাচ্ছে? কোনো জাদুকরী উপায় নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই লোকগুলো দুবাই প্রবেশ করছে।
আপনার যদি দুবাই যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকে, তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। এখানে আমরা জানাবো বর্তমানে কোন প্রক্রিয়ায় লোক নেওয়া হচ্ছে, বেতন কত এবং প্রতারণা এড়াতে কী করণীয়।
বর্তমানে কোন প্রক্রিয়ায় দুবাই ভিসা হচ্ছে?
সাধারণত ইন্ডিভিজুয়াল বা সাধারণ কোম্পানির ভিসা এখন খুব একটা হচ্ছে না। তবে দুবাইয়ের বড় গ্রুপ অফ কোম্পানিগুলো (যেমন: ফারনেক, ইমদাদ, ট্রান্সগার্ড ইত্যাদি) সরকারের সাথে বিশেষ চুক্তির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করছে। এই কোম্পানিগুলোর কাজের পরিধি বিশাল এবং তারা বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী আনার বিশেষ অনুমতি পায়।
কী কী পদে লোক নেওয়া হচ্ছে?
বর্তমানে মূলত নিচের পদগুলোতে বেশি ভিসা হচ্ছে:
-
কনস্ট্রাকশন হেলপার
-
জেনারেল লেবার
-
ক্লিনার
-
টাইলস হেলপার/ম্যাসন হেলপার
-
লোডিং-আনলোডিং বা লোডার
বেতন ও সুযোগ-সুবিধা
দুবাই যাওয়ার আগে বেতনের ব্যাপারটা পরিষ্কার থাকা জরুরি। বর্তমানে এই ক্যাটাগরির ভিসায় আসা কর্মীদের বেতন সাধারণত ১০০০ থেকে ১২০০ দিরহামের মধ্যে হয়ে থাকে।
-
খাবার খরচ: বেশিরভাগ কোম্পানিত থাকার ব্যবস্থা করলেও, খাবারের খরচ সাধারণত এই ১০০০-১২০০ দিরহামের মধ্যেই নিজেকে ম্যানেজ করতে হয়।
-
অতিরিক্ত আয়: এই বেতনের বাইরে ওভারটাইম বা বাড়তি আয়ের সুযোগ খুব সীমিত।
প্রশ্ন আসতে পারে, এত কম বেতনে মানুষ কেন যাচ্ছে?
এর মূল কারণ হলো ‘এন্ট্রি পাস’। যেহেতু অন্য ভিসা বন্ধ, তাই অনেকে এই ভিসায় দুবাই প্রবেশ করে ১-২ বছর কাজ করার পর কোম্পানিমুক্ত হওয়ার বা ভালো কোনো সুযোগ খোঁজার পরিকল্পনা নিয়ে আসছেন।
সঠিক এজেন্সি চেনার উপায় ও সতর্কতা
দুবাই যাওয়ার জন্য সঠিক এজেন্সি নির্বাচন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রতারণা এড়াতে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন (ভিডিওর তথ্যের আলোকে):
১. একাধিক এজেন্সি যাচাই করুন: অন্তত ৫টি এজেন্সিতে কথা বলুন। তাদের কথাবার্তা এবং কাজের ধরন তুলনা করুন।
২. পাসপোর্ট জমা দেওয়ার আগে ভাবুন: প্রথমেই পাসপোর্ট জমা দেবেন না। আগে তাদের অতীত কাজের রেকর্ড যাচাই করুন।
৩. টাকা লেনদেনে সতর্কতা: যদি কোনো এজেন্সি প্রসেসিংয়ের জন্য অগ্রিম ২০-৩০ হাজার টাকা চায়, তবে তা অবশ্যই ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করুন। এতে আপনার কাছে প্রমাণ থাকবে।
৪. ভিসা চেক করুন: ভিসা আসার পর অনলাইনে চেক করে দেখুন সেটি ‘অ্যাক্টিভ’ আছে কিনা। অনলাইনে ভিসা চেক করা খুব সহজ। ভিসা সঠিক থাকলে তবেই পরবর্তী পেমেন্ট করুন।
৫. ফাইনাল পেমেন্ট: এজেন্সিকে পুরো টাকা তখনই দেবেন, যখন আপনার হাতে বিমানের টিকিট এবং ভিসা চলে আসবে।
শেষ কথা
বর্তমানে দুবাই যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কিছুটা সীমিত এবং নির্দিষ্ট কিছু কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কেউ যদি আপনাকে আকাশ-কুসুম স্বপ্ন দেখায় বা অতিরিক্ত বেতনের প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে যাচাই না করে পা বাড়াবেন না। সততার সাথে কাজ করছে এমন এজেন্সির মাধ্যমে সঠিক প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে আপনিও কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন
ডিসক্লেইমার: এই আর্টিকেলের তথ্য একটি ভিডিও সোর্সের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা। ভিসা সংক্রান্ত নিয়মাবলী পরিবর্তনশীল, তাই আবেদনের আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা জেনে নেওয়ার অনুরোধ রইল।
আমি একটি প্রাইভেট ভিসা প্রসেসিং কোম্পানিতে জব করি। পাশাপাশি এই ব্লগটিতে লেখালেখি করি। আমি ব্রাক ইউনিভার্সিটে থেকে এমবিএ করেছি।