ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক ২০২৬

অনলাইনে ই-পাসপোর্টের আবেদন করার পর সবার মনেই একটি প্রশ্ন থাকে  “আমার পাসপোর্ট এখন কোন অবস্থায় আছে?” ই-পাসপোর্ট পোর্টাল চেক করলে আমরা বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেখতে পাই যেমন- ‘Enrolment Process’ বা ‘Pending Backend Verification’। এই স্ট্যাটাসগুলো দেখে অনেক সময় আমরা ঘাবড়ে যাই।

আপনার পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা এবং কোন স্ট্যাটাস পরিবর্তন হতে কতদিন সময় লাগে, তার সঠিক তথ্য নিয়েই আজকের এই বিশেষ ব্লগ।

এক নজরে ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাসের অর্থ

ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস হলো আপনার আবেদনের বর্তমান ধাপ। যদি আপনার স্ট্যাটাস ‘Passport Ready for Issuance’ দেখায়, তবে বুঝবেন পাসপোর্ট ডেলিভারি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। আর যদি ‘Sent for Rework’ দেখায়, তবে বুঝতে হবে আপনার তথ্যে কোনো ভুল আছে এবং দ্রুত পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

ই-পাসপোর্টের স্ট্যাটাস ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা

বাংলাদেশি ই-পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় সাধারণত ১১টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। নিচে পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটি ধাপের মানে সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:

১. Submitted (সাবমিটেড)

আপনি যখন অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে সফলভাবে সাবমিট করেন, তখন এই স্ট্যাটাসটি দেখায়। এর অর্থ আপনার আবেদনটি সার্ভারে জমা হয়েছে।

২. Appointment Scheduled (অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউলড)

আপনি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক (ছবি ও আঙুলের ছাপ) দেওয়ার জন্য যে তারিখটি বেছে নিয়েছেন, সেটি সফলভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

৩. Enrolment Process (এনরোলমেন্ট প্রসেস)

আপনি অফিসে গিয়ে ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার পর এই ধাপ শুরু হয়। এটি সম্পন্ন হতে সাধারণত ৩ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে।

৪. Pending Backend Verification (পেন্ডিং ব্যাকেন্ড ভেরিফিকেশন)

এই ধাপে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, নাগরিকত্ব এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হয়। মূলত পুলিশ ভেরিফিকেশন ও এনআইডি ডাটাবেসের সাথে তথ্য মেলানো হয়। এতে ২ থেকে ৩ কার্যদিবস লাগে (পুলিশ ভেরিফিকেশন বাদে)।

৫. Sent For Rework (সেন্ট ফর রিওয়ার্ক)

এটি একটি সতর্কবার্তা। যদি আপনার দেওয়া তথ্যের সাথে NID বা জন্ম সনদের কোনো অমিল থাকে, তবে এই স্ট্যাটাস দেখায়। এমতাবস্থায় দ্রুত সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

৬. Pending Final Approval (পেন্ডিং ফাইনাল অ্যাপ্রুভাল)

আপনার সমস্ত তথ্য সঠিক থাকলে ফাইলটি সহকারী পরিচালকের (AD) অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকে। এখানে সাধারণত ১ থেকে ৪ দিন সময় লাগে।

৭. Approved (অ্যাপ্রুভড)

অভিনন্দন! AD আপনার আবেদনটি অনুমোদন করেছেন। এখন আপনার পাসপোর্টটি প্রিন্টের জন্য পাঠানো হবে।

৮. Pending In Print Queue (পেন্ডিং ইন প্রিন্ট কিউ)

পাসপোর্টটি প্রিন্ট হওয়ার লাইনে আছে। এই ধাপটি সম্পন্ন হতে ৩ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

৯. Passport Shipped (পাসপোর্ট শিপড)

আপনার পাসপোর্ট সফলভাবে প্রিন্ট হয়েছে এবং ঢাকা মেইন অফিস থেকে আপনার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ১ থেকে ৩ দিন সময় লাগে।

১০. Passport Ready For Issuance (পাসপোর্ট রেডি ফর ইস্যুয়েন্স)

পাসপোর্ট আপনার আঞ্চলিক অফিসে পৌঁছে গেছে। এখন আপনি যেকোনো কার্যদিবসে স্লিপ নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেন।

১১. Passport Issued (পাসপোর্ট ইস্যুড)

পাসপোর্টটি আপনার হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন।

ই-পাসপোর্ট ডেলিভারি নিতে কতদিন সময় লাগে?

আবেদনের ধরন অনুযায়ী সময় ভিন্ন হতে পারে:

  • রেগুলার (Regular): ১৫-২১ কার্যদিবস।

  • এক্সপ্রেস (Express): ৭-১০ কার্যদিবস।

  • সুপার এক্সপ্রেস (Super Express): ২ কার্যদিবস।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: Pending Backend Verification কতদিন থাকে?

উত্তর: সাধারণত এটি ২-৩ দিন দেখায়। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট দেরিতে পৌঁছালে এটি দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে পারে।

প্রশ্ন: ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস পরিবর্তন না হলে কী করব?

উত্তর: যদি কোনো স্ট্যাটাস ১৫ দিনের বেশি অপরিবর্তিত থাকে, তবে সরাসরি আপনার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রশ্ন: পাসপোর্ট কি অন্য কেউ সংগ্রহ করতে পারবে?

উত্তর: হ্যাঁ, তবে সেক্ষেত্রে সংগ্রহকারীর কাছে মূল ডেলিভারি স্লিপ, আবেদনকারীর অথরাইজেশন লেটার এবং সংগ্রহকারীর এনআইডি কার্ড থাকতে হবে। (রক্তের সম্পর্কের কেউ হলে প্রক্রিয়া সহজ হয়)।

বিশেষ সতর্কতা ও পরামর্শ

  • পাসপোর্ট স্লিপটি যত্ন করে রাখুন, এটি ছাড়া পাসপোর্ট পাবেন না।

  • কোনো দালালের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলুন।

  • অনলাইনে নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করুন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অনলাইন পোর্টাল ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

Leave a Comment