আসসালামু আলাইকুম।
আপনাদের সবাইকে স্বাগতম। আমি আপনার ভাই নিশাত পাতওয়ারী, এখন অবস্থান করছি সাইপ্রাসে। আজকে আমি আপনাদেরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে যাচ্ছি। বিষয়টি হলো: কিভাবে বাংলাদেশ থেকে নর্থ সাইপ্রাস (তুর্কিশ সাইপ্রাস) যাওয়া যায়? আপনারা অনেকেই এই প্রশ্ন করেছেন—ভাই, কিভাবে যাওয়া যায়? সরাসরি ফ্লাইট আছে কিনা? ফ্লাইট প্রসেসিং কীভাবে হয়?
এই লেখাটি সাইপ্রাসে যেতে ইচ্ছুক প্রত্যেকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পুরোটা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, ইনশাআল্লাহ উপকারে আসবে।
প্রথম ধাপ: পাসপোর্ট জমা ও ভিসা প্রসেসিং
বাংলাদেশ থেকে যারা নর্থ সাইপ্রাসে আসতে চান, তাদের প্রথমে একটি এজেন্ট বা দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট জমা দিতে হয়। এই এজেন্ট সাধারণত সাইপ্রাসে বসেই কাজ করে অথবা কারো মাধ্যমে কাজ করিয়ে নেয়। পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর তারা আপনার হয়ে ভিসা প্রসেসিং শুরু করে।
সব ঠিকঠাক থাকলে কিছুদিন পর “অন-ইজিন (On-Izin)” নামে একটি কাগজ ইস্যু হয়, যা মূলত সাইপ্রাসের ভাষায় ভিসা হিসেবে বিবেচিত। এই কাগজ হাতে পাওয়ার পরই ফ্লাইট বুকিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ফ্লাইট বুকিং ও এয়ারলাইন্স
সাধারণত Turkish Airlines অথবা Pegasus Airlines-এর মাধ্যমে ফ্লাইট বুক করা হয়। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে কি সরাসরি ফ্লাইট আছে সাইপ্রাসের জন্য?
উত্তর হলো – না।
বাংলাদেশ সরকার নর্থ সাইপ্রাসকে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে সেখানে কোনো সাইপ্রাস এম্বাসি নেই এবং সরাসরি কোনো ফ্লাইটও নেই। শুধু তুরস্ক ও পাকিস্তান এই রাষ্ট্রটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ট্রানজিটের মাধ্যমে ভ্রমণ – কোন কোন দেশে যাওয়া হয়?
তাই যারা সাইপ্রাসে আসেন, তাদেরকে প্রথমে অন্য কোনো দেশের ট্রানজিট নিতে হয়, যেমন:
-
দুবাই (UAE)
-
বাহরাইন
-
কাতার
-
ওমান
সেখান থেকে সাইপ্রাসের জন্য পরবর্তী ফ্লাইট বুক করা হয়।
বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন পার হওয়ার কৌশল
এটাই সবচেয়ে সেনসিটিভ একটি বিষয়। কারণ, বাংলাদেশ সরকার সাইপ্রাসকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তাই সরাসরি বললে ইমিগ্রেশনে সমস্যা হতে পারে।
কী করবেন?
-
ইমিগ্রেশন পুলিশকে কখনোই বলবেন না আপনি সাইপ্রাস যাচ্ছেন।
-
বলবেন আপনি দুবাই বা বাহরাইন যাচ্ছেন (যেখানে আপনার ট্রানজিট রয়েছে)।
-
আপনার রিটার্ন টিকিটও থাকতে হবে যাতে সন্দেহ না করে।
-
এজেন্ট সাধারণত আপনাকে কিছু কোড বা বিশেষ ফুলের নাম দিয়ে চিহ্নিত করে রাখে। ইমিগ্রেশন অফিসাররা সেই কোড শুনেই আপনাকে চিনে ফেলবে।
এছাড়া যদি কোনো সমস্যা হয়, সঙ্গে সঙ্গে আপনার এজেন্টকে কল করবেন। এজেন্টরা আগে থেকেই ইমিগ্রেশন অফিসারদের সঙ্গে সমঝোতা করে রাখে।
সাইপ্রাস পৌঁছানোর পর করণীয়
সাইপ্রাস পৌঁছানোর পর আপনার ভিসা টাইপ অনুযায়ী প্রসেসিং হবে।
-
ওয়ার্ক পারমিট ভিসা থাকলে কোনো সমস্যা নেই, সরাসরি এয়ারপোর্ট থেকে বের হতে পারবেন।
-
স্টুডেন্ট ভিসা থাকলে কিছু প্রশ্ন করা হতে পারে যেমন:
-
কেন এসেছেন?
-
কোন সাবজেক্টে পড়বেন?
-
কখন দেশে ফিরবেন?
-
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এজেন্ট আপনাকে আগে থেকেই মুখস্ত করিয়ে দেবে।
উপসংহার
সাইপ্রাসে আসার পথ সহজ নয়, তবে সঠিক তথ্য ও সঠিক গাইডলাইনের মাধ্যমে আপনি নিরাপদে আসতে পারেন। এজন্য বিশ্বাসযোগ্য এজেন্টের সঙ্গে কাজ করা জরুরি।
ভিডিওটি ভালো লাগলে কমেন্ট করুন, শেয়ার করুন। আমাদের ইউটিউব চ্যানেল “Unseen Cyprus” সাবস্ক্রাইব করে সাথেই থাকুন।
আল্লাহ হাফেজ।
✍ লেখক: নিশাত পাতওয়ারী, সাইপ্রাস
📺 ইউটিউব চ্যানেল: Unseen Cyprus
আমি একটি প্রাইভেট ভিসা প্রসেসিং কোম্পানিতে জব করি। পাশাপাশি এই ব্লগটিতে লেখালেখি করি। আমি ব্রাক ইউনিভার্সিটে থেকে এমবিএ করেছি।