ই-পাসপোর্ট করার খরচ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ২০২৬

বর্তমানে বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি ডিজিটাল এবং সহজতর হয়েছে। আপনি যদি নতুন পাসপোর্ট করতে চান বা পুরনো পাসপোর্ট রিনিউ করতে চান তবে সঠিক খরচ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা জেনে নেওয়া জরুরি।

এই আর্টিকেলে আমরা ই-পাসপোর্ট করার খরচ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ২০২৬ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব, যা আপনাকে কোনো দালালের সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে আবেদন করতে সাহায্য করবে।

ই-পাসপোর্ট ফি ও প্রয়োজনীয় তথ্য ২০২৬

বিষয় বিবরণ
আবেদনের মাধ্যম অনলাইন (epassport.gov.bd)
ন্যূনতম বয়স যেকোনো নাগরিক
প্রধান কাগজপত্র এনআইডি (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC)
পাসপোর্ট মেয়াদ ৫ বছর অথবা ১০ বছর
বিতরণের সময় ২১ দিন (সাধারণ), ১৫ দিন (জরুরি), ২ দিন (অতি জরুরি)

ই-পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ই-পাসপোর্টের জন্য কাগজের চেয়ে তথ্যের সঠিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিচে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা দেওয়া হলো:

  1. এনআইডি কার্ড (NID): ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সবার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক।

  2. জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC): যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে, তাদের ক্ষেত্রে অনলাইন ভেরিফাইড (English version) জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগবে।

  3. পেশার প্রমাণপত্র: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য NOC বা G.O; বেসরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য অফিস আইডি কার্ড বা প্রত্যয়নপত্র। শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের কপি।

  4. পেমেন্ট স্লিপ: এ-চালান (A-Challan) এর মাধ্যমে টাকা জমার অনলাইন কপি বা ব্যাংক রসিদ।

  5. আবেদনের সারসংক্ষেপ (Application Summary): অনলাইন ফর্ম পূরণ শেষে এটি ডাউনলোড করতে হবে।

  6. পুরানো পাসপোর্ট (যদি থাকে): রিনিউ করার ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্টের মূল কপি এবং ফটোকপি।

  7. স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ: সাধারণত এনআইডি অনুযায়ী ঠিকানা দেওয়া হয়, তবে বিশেষ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল বা ইউপি চেয়ারম্যানের চারিত্রিক সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ই-পাসপোর্টের জন্য এখন আর আলাদা করে ছবি সত্যায়ন করার প্রয়োজন হয় না। পাসপোর্ট অফিসে আপনার ডিজিটাল ছবি, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ নেওয়া হবে।

ই-পাসপোর্ট করার খরচ ২০২৬

পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা এবং মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে খরচ নির্ধারিত হয়। নিচে বর্তমান ফি কাঠামো দেওয়া হলো (ভ্যাটসহ):

৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের জন্য:

  • সাধারণ (২১ কর্মদিবস): ৪,০২৫ টাকা

  • জরুরি (১৫ কর্মদিবস): ৬,৩২৫ টাকা

  • অতি জরুরি (০২ কর্মদিবস): ৮,৬২৫ টাকা

১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের জন্য:

  • সাধারণ (২১ কর্মদিবস): ৫,৭৫০ টাকা

  • জরুরি (১৫ কর্মদিবস): ৮,০৫০ টাকা

  • অতি জরুরি (০২ কর্মদিবস): ১০,৩৫০ টাকা

(দ্রষ্টব্য: ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ফি কিছুটা বেশি হতে পারে। অতি জরুরি পাসপোর্ট পেতে হলে অবশ্যই আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন করিয়ে নিতে হবে।)

ই-পাসপোর্ট আবেদনের সঠিক ধাপসমূহ

১. অনলাইন রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে ই-পাসপোর্ট পোর্টাল এ গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন।

২. ফর্ম পূরণ: আপনার এনআইডি/জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী ব্যক্তিগত তথ্য নির্ভুলভাবে প্রদান করুন।

৩. ফি জমা: এ-চালান বা নির্ধারিত ব্যাংকের (সোনালী, ওয়ান, ট্রাস্ট, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার বা ঢাকা ব্যাংক) মাধ্যমে ফি পরিশোধ করুন।

৪. অ্যাপয়েন্টমেন্ট: সুবিধাজনক তারিখ ও সময় অনুযায়ী বায়োমেট্রিকের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউল করুন।

৫. অফিসে উপস্থিত হওয়া: প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের মূল কপি ও প্রিন্ট কপি নিয়ে নির্দিষ্ট দিনে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হোন।

আরও দেখুন: বাংলার গুরুত্বপূর্ণ খবর

সাধারণ জিজ্ঞাসা

১. জন্ম নিবন্ধন দিয়ে কি ই-পাসপোর্ট করা যায়?

হ্যাঁ, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে তারা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। তবে ১৮-২০ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এনআইডি না থাকলে জন্ম নিবন্ধন গ্রহণ করা হয়, কিন্তু ২০ বছরের বেশি হলে এনআইডি বাধ্যতামূলক।

২. ই-পাসপোর্ট করতে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে?

নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হয়। তবে রি-ইস্যু (রিনিউ) করার ক্ষেত্রে যদি তথ্যের কোনো পরিবর্তন না থাকে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন লাগে না।

৩. পাসপোর্টের টাকা কোন ব্যাংকে জমা দেওয়া যায়?

সোনালী ব্যাংক ছাড়াও ওয়ান ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, প্রিমিয়ার ব্যাংক এবং ঢাকা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া যায়। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে ‘এ-চালান’ ব্যবহার করেও ফি পরিশোধ করা সম্ভব।

৪. ভুল তথ্য সংশোধন করবেন কীভাবে?

আবেদন সাবমিট করার আগে তথ্য ভালো করে চেক করুন। যদি ভুল হয়েই যায়, তবে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বা এনআইডি অনুযায়ী তথ্য পরিবর্তনের আবেদন করে এটি সংশোধন করতে হবে।

আমার পরামর্শ

ই-পাসপোর্ট আবেদনের সময় আপনার নাম, বাবার নাম ও মায়ের নাম যেন হুবহু এনআইডির মতো হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। সামান্য স্পেলিং মিস্টেক বা জন্ম তারিখের গরমিল থাকলে আপনার আবেদনটি ঝুলে যেতে পারে। এছাড়া পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় সাদা বা হালকা রঙের পোশাক না পরে রঙিন কলারযুক্ত পোশাক পরার চেষ্টা করুন, এতে ছবি ভালো আসে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অনলাইন পোর্টাল।

Leave a Comment