স্টুডেন্ট ভিসায় লন্ডন যেতে কত টাকা লাগে?

স্টুডেন্ট ভিসায় লন্ডন যেতে হলে সর্বমোট খরচ নির্ভর করে আপনার কোর্সের ধরন, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীবনযাত্রার ধরনের উপর। তবে একটি সাধারণ হিসাব নিচে দেওয়া হলো:

খরচের খাত আনুমানিক পরিমাণ (বাংলাদেশি টাকায়)
স্টুডেন্ট ভিসা ফি (£৪৯০) প্রায় ৮৪,০০০–৯৬,০০০ টাকা
IHS (স্বাস্থ্য সারচার্জ) প্রতি বছর (£৭৭৬) প্রায় ১,৩৩,০০০–১,৪০,০০০ টাকা
ব্যাংক চার্জ ও লেনদেন ফি প্রায় ৮,০০০–২১,০০০ টাকা
টিউশন ফি (বার্ষিক) ২০ লাখ–৬৫ লাখ টাকা (কোর্সভেদে)
লন্ডনে জীবনযাত্রার খরচ (মাসিক) প্রায় ২,৬২,০০০ টাকা (£১,৫২৯)
বিমান ভাড়া (ঢাকা-লন্ডন) ৬০,০০০–১,২০,০০০ টাকা

সংক্ষেপে: শুধু ভিসা প্রসেসিং খরচ (ফি + IHS) মিলিয়ে ১ বছরের জন্য প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা লাগে। টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচ আলাদা।

লন্ডনে স্টুডেন্ট ভিসা কী এবং কেন দরকার?

যুক্তরাজ্যে (UK) পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের Student Visa (পূর্বে Tier 4 নামে পরিচিত) নিতে হয়। এই ভিসায় আপনি লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন।

স্টুডেন্ট ভিসায় যা পাবেন:

  • UK-এর যেকোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ
  • পড়াশোনার পাশাপাশি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা পার্টটাইম কাজ (টার্মটাইমে)
  • সরকারি ছুটিতে ফুলটাইম কাজের অনুমতি
  • পড়াশোনা শেষে Graduate Route Visa-তে ২ বছর UK-তে থাকার সুযোগ

UK স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি — বাংলাদেশি টাকায়

বর্তমান ভিসা ফি (২০২৬ সাল পর্যন্ত আপডেটেড)

UK Home Office-এর নির্ধারিত এক্সচেঞ্জ রেট অনুযায়ী (ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ১ GBP = ১৭১.৮৭ BDT):

স্ট্যান্ডার্ড স্টুডেন্ট ভিসা (দীর্ঘমেয়াদী কোর্স):

  • আবেদন ফি: £৪৯০ → প্রায় ৯০,০৬১ টাকা (Home Office রেটে)
  • বাস্তবে ব্যাংক চার্জ ও ট্রানজেকশন ফি মিলিয়ে ৯৬,০০০–১,১০,০০০ টাকা হতে পারে

শর্ট-টার্ম স্টাডি ভিসা (৬–১১ মাসের ইংরেজি কোর্স):

  • আবেদন ফি: £২১৪ → প্রায় ৩৬,৭৮১ টাকা

গুরুত্বপূর্ণ নোট: এক্সচেঞ্জ রেট প্রতিদিন পরিবর্তন হয়। তাই আবেদনের সময় বর্তমান রেট যাচাই করুন।

IHS (Immigration Health Surcharge) — বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য ফি

IHS হলো UK-এর NHS (National Health Service) ব্যবহারের জন্য একটি বাধ্যতামূলক ফি। এটা ভিসা আবেদনের সময়ই পরিশোধ করতে হয়।

২০২৫-২৬ সালের IHS ফি:

  • শিক্ষার্থীদের জন্য: £৭৭৬ প্রতি বছর
  • বাংলাদেশি টাকায় প্রায়: ১,৩৩,০০০–১,৪০,০০০ টাকা

উদাহরণ:

  • ১ বছরের কোর্স: £৭৭৬ → ~১.৩৩ লাখ টাকা
  • ২ বছরের মাস্টার্স: £১,৫৫২ → ~২.৬৬ লাখ টাকা
  • ৩ বছরের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট: £২,৩২৮ → ~৪ লাখ টাকা

IHS পরিশোধ করলে UK-তে থাকার পুরো সময়টায় বেশিরভাগ চিকিৎসা বিনামূল্যে পাবেন।

প্রায়োরিটি ও সুপার-প্রায়োরিটি সার্ভিস ফি

স্ট্যান্ডার্ড প্রসেসিং সময় ৩ সপ্তাহ। তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত দরকার হলে:

সার্ভিস অতিরিক্ত ফি (BDT) প্রসেসিং সময়
স্ট্যান্ডার্ড বিনামূল্যে ৩ সপ্তাহ
প্রায়োরিটি ~৮৪,৯০০ টাকা ৫ কার্যদিবস
সুপার-প্রায়োরিটি ~১,৬৯,৬৫৬ টাকা ১ কার্যদিবস

কোর্স ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে কত লাগে?

লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি দেশীয় শিক্ষার্থীদের চেয়ে অনেক বেশি।

আন্ডারগ্র্যাজুয়েট (ব্যাচেলর্স):

  • সাধারণ কোর্স: £১১,৪০০–£২০,০০০ প্রতি বছর (~২০–৩৪ লাখ টাকা)
  • মেডিসিন/ইঞ্জিনিয়ারিং: £২৫,০০০–£৩৮,০০০ প্রতি বছর (~৪৩–৬৫ লাখ টাকা)

পোস্টগ্র্যাজুয়েট (মাস্টার্স):

  • সাধারণ প্রোগ্রাম: £১৫,০০০–£২৫,০০০ প্রতি বছর (~২৬–৪৩ লাখ টাকা)
  • MBA/Business: £২৫,০০০–£৩৫,০০০ প্রতি বছর (~৪৩–৬০ লাখ টাকা)

লন্ডনের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিউশন ফি তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে রাসেল গ্রুপের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম খরচে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

ব্যাংকে কত টাকা থাকতে হবে?

স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনার কাছে পড়াশোনা ও জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট অর্থ আছে।

নভেম্বর ২০২৫ থেকে নতুন নিয়ম (UKVI আপডেটেড):

লন্ডনে পড়াশোনার জন্য:

  • মাসিক প্রমাণ: £১,৫২৯ (~২,৬২,৮৪৯ টাকা)
  • ৯ মাসের জন্য মোট: £১৩,৭৬১ (~২৩,৬৫,৯৯৯ টাকা) — শুধু জীবনযাপন

লন্ডনের বাইরে পড়াশোনার জন্য:

  • মাসিক প্রমাণ: £১,১৭১ (~২,০১,২৬৫ টাকা)
  • ৯ মাসের জন্য মোট: £১০,৫৩৯ (~১৮,১১,৩৮৯ টাকা) — শুধু জীবনযাপন

এর সাথে যোগ হবে প্রথম বছরের বকেয়া টিউশন ফি

মোট ব্যাংক ব্যালেন্স (লন্ডনে পড়ার ক্ষেত্রে) = টিউশন ফি (বকেয়া) + £১৩,৭৬১

এই টাকা আবেদনের তারিখের আগে পরপর ২৮ দিন একই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে।

লন্ডনে মাসিক জীবনযাত্রার খরচ

লন্ডন ইউরোপের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর। তবে বুদ্ধিমত্তার সাথে খরচ পরিচালনা করলে মাসিক খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

খরচের খাত মাসিক আনুমানিক পরিমাণ (BDT)
বাসস্থান (শেয়ারড) ৮৫,০০০–১,৫০,০০০
খাবার (নিজে রান্না) ৩০,০০০–৫০,০০০
যানবাহন (Oyster Card) ১৫,০০০–২৫,০০০
মোবাইল/ইন্টারনেট ৩,০০০–৮,০০০
পড়াশোনার উপকরণ ৫,০০০–১৫,০০০
ব্যক্তিগত খরচ ১৫,০০০–৩০,০০০
মোট আনুমানিক ১,৫৩,০০০–২,৭৮,০০০

টিপস: স্টুডেন্ট হলে বা শেয়ারড অ্যাপার্টমেন্টে থাকলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। লন্ডনের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো (ম্যানচেস্টার, লিডস, বার্মিংহাম) বেছে নিলে মাসিক খরচ ৩০–৪০% কম হতে পারে।

বিমান ভাড়া ও অন্যান্য প্রাথমিক খরচ

ঢাকা থেকে লন্ডন (হিথ্রো) বিমান ভাড়া:

  • সরাসরি ফ্লাইট (Biman, British Airways): প্রায় ৮০,০০০–১,২০,০০০ টাকা (রাউন্ড ট্রিপ)
  • ট্রানজিট ফ্লাইট (Qatar, Emirates, Turkish): প্রায় ৫৫,০০০–৯০,০০০ টাকা

প্রথমবার যাওয়ার সেটআপ খরচ (একবারের জন্য):

  • প্রথম মাসের ভাড়া + ডিপোজিট
  • বেডিং, রান্নার সরঞ্জাম
  • SIM কার্ড ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা
  • আনুমানিক ১,০০,০০০–২,০০,০০০ টাকা অতিরিক্ত বাজেট রাখুন

মোট খরচের সারসংক্ষেপ (বাস্তবসম্মত হিসাব)

১ বছরের মাস্টার্স প্রোগ্রাম — লন্ডনে (উদাহরণ):

খরচের খাত আনুমানিক পরিমাণ
ভিসা ফি (£৪৯০) ~৯০,০০০ টাকা
IHS ফি (১ বছর, £৭৭৬) ~১,৩৩,০০০ টাকা
ব্যাংক চার্জ ~১৫,০০০ টাকা
টিউশন ফি (গড়) ~৩০,০০,০০০ টাকা
জীবনযাত্রা (১২ মাস) ~২২,০০,০০০ টাকা
বিমান ভাড়া ~৮০,০০০ টাকা
সেটআপ খরচ ~১,৫০,০০০ টাকা
মোট আনুমানিক ~৫৫–৬০ লাখ টাকা

নোট: কোর্স, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীবনযাত্রার ধরন অনুযায়ী এই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম বা বেশি হতে পারে।

ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া

স্টুডেন্ট ভিসায় লন্ডন যাওয়ার পথ সহজ করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

ধাপ ১: UK বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করুন এবং অফার লেটার পান

ধাপ ২: বিশ্ববিদ্যালয় থেকে CAS (Confirmation of Acceptance for Studies) নম্বর সংগ্রহ করুন

ধাপ ৩: TB (যক্ষ্মা) পরীক্ষা করুন — বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীদের জন্য বাধ্যতামূলক

ধাপ ৪: GOV.UK ওয়েবসাইটে অনলাইনে ভিসা আবেদন করুন এবং ভিসা ফি ও IHS পরিশোধ করুন

ধাপ ৫: VFS Global-এর মাধ্যমে বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ ও ছবি) দিন

ধাপ ৬: ডকুমেন্ট জমা দিন — ভিসার সিদ্ধান্ত সাধারণত ৩ সপ্তাহের মধ্যে আসে

কোর্স শুরুর কত আগে আবেদন করবেন?

  • সর্বোচ্চ ৬ মাস আগে আবেদন করা যায়
  • প্রসেসিং সময়: সাধারণত ৩ সপ্তাহ
  • বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে TB পরীক্ষাসহ অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে
  • কোর্স শুরুর অন্তত ২–৩ মাস আগে আবেদন শুরু করুন

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের তালিকা

স্টুডেন্ট ভিসার জন্য নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন:

  • বৈধ পাসপোর্ট (কোর্স শেষ হওয়ার পরেও কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে)
  • CAS নম্বর (বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত)
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট (আবেদনের ৩১ দিনের মধ্যে ইস্যু করা, ২৮ দিনের ধারাবাহিক রেকর্ড)
  • TB (যক্ষ্মা) পরীক্ষার সনদ
  • IELTS বা অন্য ইংরেজি দক্ষতার সনদ (বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী)
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • ভর্তির অফার লেটার
  • একাডেমিক সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট

স্কলারশিপ — খরচ কমানোর সেরা উপায়

লন্ডনে পড়াশোনার খরচ অনেক বেশি মনে হলেও বেশ কিছু স্কলারশিপে আবেদন করে এই বোঝা অনেকটা হালকা করা সম্ভব।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য স্কলারশিপ:

  • Chevening Scholarship: UK সরকারের ফুলি ফান্ডেড স্কলারশিপ। টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ভাতা, বিমান টিকিট সব মেলে।
  • Commonwealth Scholarship: কমনওয়েলথ দেশগুলোর জন্য — বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারেন।
  • GREAT Scholarship: ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে — ১ বছরের পোস্টগ্র্যাজুয়েটে £১০,০০০ পর্যন্ত সহায়তা।
  • বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব স্কলারশিপ: UCL, King’s College, SOAS-সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা বৃত্তি দেয়।

পার্টটাইম কাজ করে কত উপার্জন সম্ভব?

স্টুডেন্ট ভিসায় লন্ডনে থাকলে:

  • টার্মটাইমে: সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করা যায়
  • ছুটিতে (vacation): ফুলটাইম কাজ করা যায়

UK-এর ন্যূনতম মজুরি (২০২৫ সাল থেকে):

  • ২১ বছর ও তার বেশি বয়সীদের জন্য: £১২.২১ প্রতি ঘণ্টা
  • ১৮–২০ বছর বয়সীদের জন্য: £১০.০০ প্রতি ঘণ্টা

সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করলে মাসে প্রায় ৮০–৯০ হাজার টাকা উপার্জন সম্ভব, যা জীবনযাত্রার খরচের একটি অংশ কভার করতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে UK স্টুডেন্ট ভিসার সাফল্যের হার

Home Office-এর সর্বশেষ তথ্য (সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত) অনুযায়ী:

  • বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন: ১৪,১০৪টি
  • ভিসা অনুমোদনের হার: ৮৪%
  • বৈশ্বিক গড় অনুমোদনের হার: ৯৫%

বাংলাদেশ বিশ্বে UK স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনে ৭ম স্থানে রয়েছে। তুলনামূলকভাবে চীন (৯৯%), ভারত (৯৬%), পাকিস্তান (৯২%) বেশি সাফল্য পাচ্ছে। বাংলাদেশিদের ভিসা রিজেকশনের প্রধান কারণ আর্থিক প্রমাণের দুর্বলতা এবং জেনুইন স্টুডেন্ট ইন্টেন্ট প্রমাণে ব্যর্থতা।

ভিসা প্রত্যাখ্যান এড়াতে কী করবেন?

ভিসা রিজেকশন এড়ানোর জন্য নিচের বিষয়গুলো মনে রাখুন:

  • ব্যাংকে ২৮ দিন ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ রাখুন
  • CAS নম্বরের সাথে ব্যাংক স্টেটমেন্টের মিল নিশ্চিত করুন
  • আবেদনের কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন
  • সঠিক ও আপডেটেড ডকুমেন্ট জমা দিন
  • ভুয়া বা অসত্য তথ্য কখনো দেবেন না — এতে ১০ বছরের ভিসা নিষেধাজ্ঞা হতে পারে

সচরাচর জিজ্ঞাসা

লন্ডনে স্টুডেন্ট ভিসায় কি পরিবার নিয়ে যাওয়া যায়?

হ্যাঁ, তবে শর্ত আছে। যদি আপনি পোস্টগ্র্যাজুয়েট রিসার্চ কোর্সে (যেমন PhD বা MRes) ভর্তি থাকেন বা সরকারি স্কলারশিপপ্রাপ্ত হন, তাহলে স্ত্রী/স্বামী ও সন্তানদের ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে নিতে পারবেন। তাদের জন্য আলাদা ভিসা ও IHS ফি লাগবে এবং ব্যাংকে প্রতি ডিপেন্ডেন্টের জন্য অতিরিক্ত £৮৪৫/মাস (লন্ডনে) দেখাতে হবে।

IELTS কত স্কোর দরকার?

বেশিরভাগ UK বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েটের জন্য IELTS ৬.০–৬.৫ এবং পোস্টগ্র্যাজুয়েটের জন্য ৬.৫–৭.০ স্কোর চাওয়া হয়। তবে ব্যাচেলর্স পর্যায়ে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সনদ থাকলে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় IELTS ছাড় দেয়।

ভিসার জন্য কোন ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য?

UKVI কর্তৃক অনুমোদিত বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্ট গ্রহণযোগ্য। তবে ব্যাংক স্টেটমেন্টে অফিশিয়াল সিল থাকতে হবে। DPS বা FDR ভাঙানো অর্থও গ্রহণযোগ্য, তবে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ওভারড্রাফট গ্রহণযোগ্য নয়।

লন্ডনে পড়াশোনার পর কি UK-তে থাকা যাবে?

হ্যাঁ। পড়াশোনা শেষ হলে Graduate Route Visa-তে আবেদন করা যায়, যেখানে স্নাতকোত্তরের পর ২ বছর এবং PhD-এর পর ৩ বছর UK-তে থেকে চাকরি খোঁজার সুযোগ পাবেন।

লন্ডনে পড়তে কি কনসালটেন্সি দরকার?

আইনত বাধ্যতামূলক নয়। আপনি নিজেই GOV.UK ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারেন। তবে জটিল পরিস্থিতিতে OISC (Office of the Immigration Services Commissioner) নিবন্ধিত পরামর্শদাতার সহায়তা নেওয়া ভালো।

স্টুডেন্ট ভিসায় ফ্লাইটের আগে কতদিন UK-তে ঢুকতে পারব?

কোর্স শুরুর ১ সপ্তাহ আগে (স্নাতকোত্তরের ক্ষেত্রে) বা ১ মাস আগে (স্নাতকের ক্ষেত্রে) UK-তে প্রবেশ করার অনুমতি থাকে।

TB পরীক্ষা কোথায় করাব?

ঢাকার BRAC সেন্টার বা সরকার অনুমোদিত কিছু ক্লিনিকে TB পরীক্ষা করানো যায়। পরীক্ষার ফি সাধারণত ৩,০০০–৫,০০০ টাকার মধ্যে।

তথ্যসূত্র:

⚠️ ডিসক্লেইমার: এই আর্টিকেলের সব তথ্য মে ২০২৬ পর্যন্ত আপডেটেড। ভিসা ফি ও নিয়ম পরিবর্তনশীল। আবেদনের আগে সর্বশেষ তথ্যের জন্য সরাসরি GOV.UK দেখুন।

Leave a Comment