সৌদি আরব (Saudi Arabia) অনেকের স্বপ্নের দেশ। ভিশন ২০৩০-কে সামনে রেখে দেশটি দ্রুত উন্নত হচ্ছে। ২০২৫, ২০২৬ সাল এবং আগামী ৫০ বছরেও সৌদি আরবে কিছু নির্দিষ্ট কাজের চাহিদা থাকবে তুঙ্গে।
আপনি কি সৌদি আরব যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? ভাবছেন সেখানে গিয়ে কী করবেন? খালি হাতে বা কোনো কাজ না জেনে গেলে বিপদে পড়তে পারেন। তাই দেশ থেকে কিছু কাজ শিখে গেলে মাসে ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।
এই আর্টিকেলে আমরা সৌদি আরবে উচ্চ আয়ের ১৩টি কাজের তালিকা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নিয়ে আলোচনা করব, যা আপনার প্রবাস জীবনকে সহজ করে তুলবে।
কেন সৌদি আরবে কাজের চাহিদা বাড়ছে?
ভিডিওর তথ্যানুসারে, সৌদি আরব এখন শুধু তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়। তারা ইউরোপ-আমেরিকার মতো পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন তৈরির পরিকল্পনা করছে।
-
ভিশন ২০৩০: সৌদি সরকার বিশাল উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
-
আন্তর্জাতিক ইভেন্ট: বিশ্বকাপ ফুটবল, এশিয়ান কাপসহ বিভিন্ন গেমসের আয়োজন চলছে। এসব কারণে দক্ষ কর্মীর চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে।
মাসে ১ লাখ+ টাকা আয়ের ১৩টি কাজ
নিচে ভিডিওতে উল্লেখিত ১৩টি কাজের তালিকা দেওয়া হলো, যা শিখে গেলে আপনার কাজের অভাব হবে না এবং ভালো বেতন পাবেন।
১. বড় গাড়ি চালানো (Heavy Driver)
এটি সবচেয়ে বেশি আয়ের সুযোগ থাকা কাজগুলোর একটি। ইট, বালু বা সিমেন্ট বহনকারী বড় গাড়ি চালাতে পারলে শুরুতে ২৫০০-৩০০০ রিয়াল এবং পরে ৪৫০০-৫০০০ রিয়াল পর্যন্ত বেতন পাওয়া সম্ভব।
২. গাড়ির মেকানিক বা সার্ভিসিং
গাড়ি ঠিক করার কাজ জানলে মাসে ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা আয় করা কোনো ব্যাপারই নয়। এই কাজের চাহিদা সবসময় থাকে।
৩. স্যানিটারি বা পাইপ ফিটিং
পাইপ ফিটিং বা স্যানিটারির কাজ জানলে দৈনিক ১২০ রিয়াল থেকে শুরু করে আরও বেশি হাজিরা পাওয়া যায়।
৪. রাজমিস্ত্রি (প্লাস্টার বা গাঁথুনি)
বিল্ডিং তৈরির কাজে প্লাস্টার বা গাঁথুনির দক্ষ মিস্ত্রিদের হাজিরা সর্বনিম্ন ১২০ রিয়াল থেকে শুরু হয়।
৫. টাইলস মিস্ত্রি
ভালোভাবে টাইলস লাগাতে জানলে এবং হাতে কাজ থাকলে মাসে ১ লাখ টাকা আয় করা সহজ। এছাড়া চুক্তিতে বা ঘণ্টা হিসেবেও কাজ করা যায়।
৬. সেলুনের কাজ (Barber)
বিশেষ করে মক্কা বা বড় শহরে সেলুনের দোকান ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। ভালো কাজ জানলে এখানে প্রচুর আয়ের সুযোগ রয়েছে।
৭. ওয়েল্ডিং বা গ্রিল তৈরির কাজ
থাই গ্লাস, জানালা বা দরজার গ্রিল তৈরির কাজ (ওয়েল্ডিং) জানলে ভালো বেতন পাওয়া যায়।
৮. জিপসাম বোর্ডের কাজ (Gypsum Board)
বর্তমানে সৌদি আরবের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে জিপসাম বোর্ডের ডেকোরেশন করা হয়। এই কাজে অভিজ্ঞদের দৈনিক আয় ১২০-১৭০ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে।
৯. মোবাইল সার্ভিসিং
মোবাইল মেরামতের কাজ জানলে মাসে লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব। এটি একটি সম্মানজনক এবং আরামদায়ক পেশা।
১০. রঙের কাজ (Painter)
বিল্ডিং পেইন্টিং বা রঙের কাজে দক্ষ হলে দৈনিক ১২০ থেকে ১৬০ রিয়াল পর্যন্ত হাজিরা পাওয়া যায়।
১১. এসি ও ফ্রিজ মেরামত
গরমের দেশ হওয়ায় সৌদি আরবে এসি ও ফ্রিজের মেকানিকদের চাহিদা প্রচুর। এই কাজ জানলে মাসে ১ লাখ টাকার ওপরে বেতন পাওয়া খুবই স্বাভাবিক।
১২. বাবুর্চি বা কুক (Chef)
ভালো রান্নার হাত থাকলে হোটেল বা বড় কোম্পানিতে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করে ভালো টাকা আয় করা যায়। অনেক বাংলাদেশি বর্তমানে সেখানে হোটেলের মালিকও হয়েছেন।
১৩. ইলেকট্রিশিয়ান (Electrical Work)
বিল্ডিংয়ের ইলেকট্রিক কাজ বা ওয়্যারিং জানলে দৈনিক ১২০-১৫০ রিয়াল হাজিরায় কাজ পাওয়া যায়। অভিজ্ঞতার সাথে সাথে এই রেট আরও বাড়ে।
নতুনদের জন্য কিছু বিশেষ পরামর্শ
ভিডিওতে প্রবাসীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেওয়া হয়েছে:
-
সঠিক মাধ্যমে যাওয়া: শুধু কাজ শিখলেই হবে না, এমন মানুষ বা এজেন্সির মাধ্যমে যান যারা আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে কাজে লাগিয়ে দিতে পারবে।
-
সাপ্লাই কোম্পানি: ভালো সাপ্লাই কোম্পানি খুঁজে বের করুন, যারা ঠিকমতো বেতন দেয় এবং থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে। খারাপ সাপ্লাই কোম্পানিতে গেলে বেতন নিয়ে ভোগান্তি হতে পারে।
-
ড্রাইভিং শেখা: যেকোনো কাজের পাশাপাশি ড্রাইভিং (ছোট বা বড় গাড়ি) শিখে রাখলে ভবিষ্যতে ‘মুদির’ বা সুপারভাইজার হওয়ার সুযোগ থাকে।
পাঠকদের সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
১. কাজ না জেনে সৌদি আরব গেলে কী সমস্যা হতে পারে?
কাজ না জানলে বেতন অনেক কম হয় এবং লেবার হিসেবে কঠিন পরিশ্রম করতে হয়। অনেক সময় কাজ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
২. এসব কাজ শিখতে কতদিন লাগে?
কাজের ধরণ অনুযায়ী ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগতে পারে। দেশ থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা ওস্তাদের কাছ থেকে হাতে-কলমে শিখে যাওয়া ভালো।
৩. ২০২৫ সালে সৌদি আরবে কোন কাজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি?
কনস্ট্রাকশন (টাইলস, ইলেকট্রিক, প্লাম্বিং) এবং ড্রাইভিং সেক্টরে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শেষ কথা
সৌদি আরব এখন পরিবর্তনের পথে। আপনি যদি দক্ষ হয়ে সেখানে যেতে পারেন, তবে নিজের এবং পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব। তাই দালাল বা ভুল মানুষের পাল্লায় না পড়ে, আগে একটি কারিগরি কাজ শিখুন, তারপর বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিন।
আমি একটি প্রাইভেট ভিসা প্রসেসিং কোম্পানিতে জব করি। পাশাপাশি এই ব্লগটিতে লেখালেখি করি। আমি ব্রাক ইউনিভার্সিটে থেকে এমবিএ করেছি।