বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের প্রচলন হওয়ার পর থেকে ‘পাসপোর্ট রিনিউ’ বা নবায়ন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে মেয়াদকীর্ণ পাসপোর্ট নবায়ন করার অর্থ হলো আগের তথ্য ঠিক রেখে নতুন একটি ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করা। আপনি যদি ঘরে বসেই আপনার ই-পাসপোর্ট রিনিউ করতে চান, তবে এই গাইডটি আপনার জন্য।
ই-পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম কি?
ই-পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য প্রথমে epassport.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ব্যাংক বা এ-চালানের মাধ্যমে ফি জমা দিয়ে, আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক প্রদান করতে হবে। সব ঠিক থাকলে পুলিশ ভেরিফিকেশন (প্রয়োজন সাপেক্ষে) শেষে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনার নতুন পাসপোর্টটি হাতে পাবেন।
ই-পাসপোর্ট রিনিউ করতে যা যা প্রয়োজন
আবেদন শুরু করার আগে নিচের ডকুমেন্টগুলো গুছিয়ে রাখুন:
-
পুরাতন পাসপোর্ট: অরিজিনাল পাসপোর্ট এবং এর ডাটা পেজের ফটোকপি।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): মূল কপি এবং ফটোকপি (২০ বছরের নিচে হলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন)।
-
আবেদনপত্রের সামারি: অনলাইন আবেদনের পর প্রাপ্ত ‘Application Summary’।
-
পেমেন্ট স্লিপ: ব্যাংক এ-চালান বা অনলাইন পেমেন্টের কপি।
-
পেশাগত প্রমাণপত্র: সরকারি চাকরিজীবী বা বিশেষ পেশার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক এনওসি (NOC) বা জিও (GO)।
ই-পাসপোর্ট রিনিউ করার প্রক্রিয়া
১. অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করা
প্রথমে ই-পাসপোর্ট পোর্টালে গিয়ে আপনার আগের অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন। এরপর ‘Renew’ বা ‘Re-issue’ অপশন সিলেক্ট করুন। এখানে আপনার বর্তমান ঠিকানায় কোনো পরিবর্তন থাকলে তা আপডেট করতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন, স্থায়ী ঠিকানার বড় কোনো পরিবর্তন হলে পুলিশ ভেরিফিকেশন আবার হতে পারে।
২. পাসপোর্ট ফি ও ডেলিভারি মোড নির্বাচন
বাংলাদেশে বর্তমানে ৫ বছর ও ১০ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট পাওয়া যায়। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পৃষ্ঠা সংখ্যা (৪৮ বা ৬৪ পৃষ্ঠা) এবং মেয়াদ বেছে নিন। ডেলিভারির ক্ষেত্রে তিনটি অপশন পাবেন:
-
Regular: ১৫-২১ কর্মদিবস।
-
Express: ৭-১০ কর্মদিবস।
-
Super Express: ২ কর্মদিবস (জরুরি প্রয়োজনে)।
৩. অনলাইন বা অফলাইন পেমেন্ট
এ-চালানের মাধ্যমে সরকারি ব্যাংকগুলোতে (সোনালী, ওয়ান, প্রিমিয়ার, ট্রাস্ট, ব্যাংক এশিয়া, ঢাকা ব্যাংক) ফি জমা দেওয়া যায়। এছাড়া বিকাশ বা কার্ডের মাধ্যমেও অনলাইনে ফি পরিশোধ করা সম্ভব।
৪. পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক প্রদান
অনলাইন আবেদনের কপি ও পেমেন্ট স্লিপ নিয়ে নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হোন। সেখানে আপনার ছবি তোলা হবে, আঙ্গুলের ছাপ (Fingerprint) এবং চোখের মণি (Iris) স্ক্যান করা হবে।
২০২৬ সালে ই-পাসপোর্ট রিনিউ ফি কত?
| মেয়াদ | পৃষ্ঠা সংখ্যা | ডেলিভারি টাইপ | ফি (ভ্যাটসহ আনুমানিক) |
| ৫ বছর | ৪৮ পৃষ্ঠা | রেগুলার | ৪,০২৫ টাকা |
| ১০ বছর | ৪৮ পৃষ্ঠা | রেগুলার | ৫,৭৫০ টাকা |
| ১০ বছর | ৬৪ পৃষ্ঠা | এক্সপ্রেস | ১০,৩৫০ টাকা |
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: পাসপোর্ট রিনিউ করতে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে?
উত্তর: যদি আপনার পুরাতন পাসপোর্টের তথ্য এবং বর্তমান ঠিকানায় কোনো পরিবর্তন না থাকে, তবে সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না। তবে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করলে ভেরিফিকেশন হতে পারে।
প্রশ্ন ২: পুরাতন পাসপোর্ট কি পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হয়?
উত্তর: হ্যাঁ, বায়োমেট্রিক প্রদানের সময় পুরাতন পাসপোর্টটি দেখাতে হয়। অফিস থেকে সেটি ‘Cancel’ সিল দিয়ে আপনাকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে নতুন পাসপোর্ট নেওয়ার সময় আবার দেখাতে হবে।
প্রশ্ন ৩: পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন আর রিনিউ কি এক সাথে করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, রিনিউ আবেদনের সময় আপনি নির্দিষ্ট কিছু তথ্য (যেমন: পেশা বা ঠিকানা) সংশোধনের সুযোগ পাবেন। তবে নামের বড় পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই আইনি ডকুমেন্ট বা গেজেট প্রয়োজন।
সতর্কতা ও টিপস
-
আবেদন করার সময় বানান এবং এনআইডির সাথে তথ্যের মিল আছে কি না তা বারবার চেক করুন।
-
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৬ মাস আগে রিনিউ করা বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ অনেক দেশ মেয়াদ ৬ মাসের কম থাকলে ভিসা দেয় না।
-
দালাল চক্র এড়িয়ে সরাসরি সরকারি পোর্টালে আবেদন করুন।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অনলাইন পোর্টাল ও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (DIP)।
আমি একটি প্রাইভেট ভিসা প্রসেসিং কোম্পানিতে জব করি। পাশাপাশি এই ব্লগটিতে লেখালেখি করি। আমি ব্রাক ইউনিভার্সিটে থেকে এমবিএ করেছি।