মালদ্বীপ যেতে কত টাকা লাগে?

বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ যেতে কোনো পূর্বানুমোদিত ভিসার প্রয়োজন নেই; পৌঁছানোর পর বিনামূল্যে ৩০ দিনের ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা পাওয়া যায়। ৪-৫ দিনের একটি স্ট্যান্ডার্ড বাজেট ট্যুরে জনপ্রতি আনুমানিক ৯০,০০০ থেকে ১,১০,০০০ টাকা খরচ হতে পারে। এর মধ্যে রিটার্ন বিমান ভাড়া, মাফুশি বা হুলহুমালের মতো লোকাল আইল্যান্ডে থাকা-খাওয়া এবং প্রাথমিক অ্যাক্টিভিটি অন্তর্ভুক্ত।

মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ১,২০০টিরও বেশি প্রবালদ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি অপূর্ব দেশ। ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যাওয়ার্ডস-এ টানা কয়েকবার “ওয়ার্ল্ডস লিডিং ডেসটিনেশন” হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই দেশটি বাংলাদেশিদের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। নিচে মালদ্বীপ ভ্রমণের এ টু জেড গাইডলাইন দেওয়া হলো।

মালদ্বীপের ভিসা: বাংলাদেশিদের কি ভিসা লাগে?

না, মালদ্বীপ ভ্রমণে আগে থেকে কোনো ভিসা করতে হয় না।

বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা মালদ্বীপে পৌঁছানোর পরই বিনামূল্যে ৩০ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসা (On Arrival Visa) পান।

ইমিগ্রেশনে যেসব কাগজপত্র দেখাতে হবে:

  • বৈধ পাসপোর্ট: ন্যূনতম ৬ মাসের মেয়াদ থাকতে হবে।

  • রিটার্ন টিকেট: মালদ্বীপ থেকে ফিরে আসা বা অন্য দেশে যাওয়ার কনফার্মড বিমান টিকেট।

  • হোটেল বুকিং: যেকোনো কনফার্মড হোটেল বা রিসোর্ট বুকিংয়ের কপি।

  • আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ: প্রতিদিনের খরচের জন্য অন্তত $৫০ এবং আনুষঙ্গিক খরচের জন্য $১০০ (অথবা ক্রেডিট কার্ড)।

  • IMUGA ডিক্লারেশন (বাধ্যতামূলক): মালদ্বীপে পৌঁছানোর এবং সেখান থেকে ছাড়ার সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা আগে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের IMUGA পোর্টালে অনলাইনে ট্রাভেলার ডিক্লারেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ বিমান ভাড়া কত?

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালদ্বীপের ভেলানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (MLE)-এ সরাসরি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।

এয়ারলাইন্স ধরন আনুমানিক রিটার্ন ভাড়া (BDT)
মালদিভিয়ান এয়ারলাইন্স সরাসরি (প্রায় ৪.৫ ঘণ্টা) ৪৫,০০০ – ৬০,০০০ টাকা
শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স ট্রানজিট (কলম্বো হয়ে) ৪০,০০০ – ৫৫,০০০ টাকা
ইন্ডিগো (IndiGo) ট্রানজিট (ভারত হয়ে)* ৩৮,০০০ – ৫০,০০০ টাকা
এমিরেটস / কাতার এয়ারওয়েজ দীর্ঘ রুটের ট্রানজিট ৮০,০০০ – ১,২০,০০০+ টাকা

(নোট: ইন্ডিগো ফ্লাইটে ভারতে ট্রানজিট থাকলে অনেক ক্ষেত্রে ভারতীয় ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন হতে পারে, তাই বুকিংয়ের আগে চেক করে নেওয়া জরুরি।)

ভাড়া কমানোর টিপস: অন্তত ৪৫-৬০ দিন আগে টিকেট কাটুন এবং মে-অক্টোবর (অফ-সিজন) মাসে ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন।

মালদ্বীপে থাকা-খাওয়ার খরচ

মালদ্বীপে থাকার খরচ নির্ভর করে আপনি প্রাইভেট রিসোর্টে থাকবেন নাকি লোকাল আইল্যান্ডে থাকবেন তার ওপর। বাংলাদেশিদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় বাজেট-ফ্রেন্ডলি লোকাল আইল্যান্ড হলো মাফুশি (Maafushi) এবং হুলহুমালে (Hulhumalé)

থাকার খরচ (প্রতি রাতের হিসাব)

  • লোকাল গেস্টহাউস (মাফুশি/হুলহুমালে): ৫,০০০ – ১২,০০০ টাকা (দুজনের জন্য)

  • মালে শহরে ৩-৪ স্টার হোটেল: ৭,০০০ – ১৫,০০০ টাকা

  • প্রাইভেট আইল্যান্ড রিসোর্ট (স্ট্যান্ডার্ড রুম): ৩০,০০০ – ৬০,০০০+ টাকা

  • ওভারওয়াটার ভিলা (Water Villa): ৬০,০০০ – ২,০০,০০০+ টাকা

(নোট: মালদ্বীপে প্রতিদিন জনপ্রতি ৩-৬ ডলার ‘গ্রিন ট্যাক্স’ দিতে হয়, যা অনেক সময় হোটেল ভাড়ার সাথে যুক্ত থাকে।)

খাবারের খরচ

মালদ্বীপে খাবারে ট্যাক্স যুক্ত থাকায় খরচ কিছুটা বেশি।

  • স্থানীয় রেস্তোরাঁ (লোকাল আইল্যান্ড): ৫০০ – ১,০০০ টাকা (প্রতি বেলা)

  • রিসোর্ট বা ফ্যান্সি রেস্তোরাঁ: ২,৫০০ – ১০,০০০+ টাকা (প্রতি বেলা)

যাতায়াত ও অ্যাক্টিভিটি খরচ

বিমানবন্দর থেকে দ্বীপগুলোতে যাওয়ার জন্য স্পিডবোট বা ফেরি ব্যবহার করতে হয়।

  • পাবলিক ফেরি: সবচেয়ে সস্তা (১৫০-৩০০ টাকা), তবে সময় বেশি লাগে এবং নির্দিষ্ট শিডিউল থাকে।

  • শেয়ার্ড স্পিডবোট: মালে থেকে মাফুশি যেতে জনপ্রতি ২৫-৩০ ডলার (৩,০০০-৩,৭০০ টাকা) লাগে।

  • অ্যাক্টিভিটি (স্নোরকেলিং, ডলফিন ওয়াচিং, স্যান্ডব্যাংক ট্যুর): মাফুশিতে ফুল-ডে বা হাফ-ডে প্যাকেজ পাওয়া যায়, যার খরচ জনপ্রতি ৩,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকার মধ্যে।

মালদ্বীপ ট্যুর প্যাকেজ: ৫ দিন ৪ রাতের সম্ভাব্য খরচ

নিচে জনপ্রতি আনুমানিক খরচের একটি ধারণা দেওয়া হলো (টুইন শেয়ারিং বেসিসে):

বাজেট ট্যুর (লোকাল আইল্যান্ড – মাফুশি)

  • বিমান ভাড়া: ৪৫,০০০ টাকা

  • থাকা (৪ রাত): ১২,০০০ টাকা (গেস্টহাউস শেয়ারিং)

  • খাবার: ১০,০০০ টাকা

  • স্পিডবোট যাতায়াত: ৭,০০০ টাকা

  • অ্যাক্টিভিটি (১ দিন প্যাকেজ): ৫,০০০ টাকা

  • বিবিধ: ৫,০০০ টাকা

  • সর্বমোট: প্রায় ৮৪,০০০ – ৯৫,০০০ টাকা

লাক্সারি ট্যুর (প্রাইভেট রিসোর্ট + ওভারওয়াটার ভিলা)

  • বিমান ভাড়া: ৫৫,০০০ টাকা

  • থাকা (৪ রাত): ১,২০,০০০ টাকা (২ রাত বিচ ভিলা + ২ রাত ওয়াটার ভিলা শেয়ারিং)

  • খাবার (ফুল বোর্ড): অন্তর্ভুক্ত

  • স্পিডবোট/সিপ্লেন ট্রান্সফার: ২০,০০০ – ৪০,০০০ টাকা

  • সর্বমোট: প্রায় ২,০০,০০০ – ২,৫০,০০০+ টাকা

কখন মালদ্বীপ যাওয়া সবচেয়ে ভালো?

  • পিক সিজন (নভেম্বর – এপ্রিল): আবহাওয়া চমৎকার থাকে, বৃষ্টিপাত কম হয়। হানিমুন বা রিলাক্স ট্যুরের জন্য সেরা সময়। তবে সবকিছুর দাম বেশি থাকে।

  • অফ সিজন (মে – অক্টোবর): এই সময়ে বৃষ্টিপাত বেশি হতে পারে। তবে হোটেল এবং ফ্লাইটে বিশাল ছাড় পাওয়া যায়, যা বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য দারুণ।

মালদ্বীপ কাজের ভিসা আপডেট ২০২৬

কাজের উদ্দেশ্যে যারা যেতে চান, তাদের জেনে রাখা ভালো যে মালদ্বীপ সরকার অদক্ষ শ্রমিকদের ভিসার ওপর বিভিন্ন সময় কড়াকড়ি আরোপ করে। বর্তমানে দক্ষ শ্রমিক (Skilled Workers) এবং রিসোর্ট স্টাফদের জন্য নির্দিষ্ট কোটায় ভিসা চালু রয়েছে। প্রতারণা এড়াতে অবশ্যই সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল (BOESL) বা অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে খোঁজ নিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

মালদ্বীপের মুদ্রার নাম কী?

মালদ্বীপের স্থানীয় মুদ্রার নাম মালদিভিয়ান রুফিয়াহ (MVR)। তবে পর্যটকদের জন্য সব জায়গায় মার্কিন ডলার (USD) ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়। সাথে ক্যাশ ডলার বা ডুয়েল কারেন্সি ক্রেডিট কার্ড নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক।

মালদ্বীপে কি অ্যালকোহল পাওয়া যায়?

মালদ্বীপ একটি ১০০% মুসলিম দেশ। মালে বা মাফুশির মতো লোকাল আইল্যান্ডগুলোতে অ্যালকোহল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে প্রাইভেট রিসোর্ট আইল্যান্ড এবং সাগরে ভাসমান ‘সাফারি বোট’-এ পর্যটকদের জন্য অ্যালকোহল পরিবেশন করা হয়।

ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স কি বাধ্যতামূলক?

বাধ্যতামূলক নয়, তবে অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসা খরচ মালদ্বীপে বেশ ব্যয়বহুল, তাই দেশ থেকে যাওয়ার আগে ২,০০০-৩,০০০ টাকার মধ্যে একটি ভালো ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

সোর্স ও রেফারেন্স

Maldives Immigration: immigration.gov.mv

World Tourism Organization (UNWTO)

Velana International Airport (MLE) — Official Site

Maldives Tourism: visitmaldives.com

Leave a Comment