অনেকেই ইউরোপে সেটেল হওয়ার বা পড়াশোনা করার স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে এবং ভিসা জটিলতার ভয়ে পিছিয়ে যান। আপনি কি জানেন, শেনজেনভুক্ত এমন কিছু দেশ আছে যেখানে কোন দেশের ভিসা সহজে পাওয়া যায়, তা জানলে আপনার ইউরোপ যাত্রা অনেক সহজ হতে পারে?
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এবং ভিসা প্রসেসিং-এর সহজলভ্যতা বিশ্লেষণ করে, আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ইউরোপের এমন ৬টি দেশ নিয়ে আলোচনা করবো, যেখানে বাংলাদেশী বা ভারতীয়দের জন্য ভিসা পাওয়া তুলনামূলক সহজ।
ইউরোপের ভিসা পাওয়ার জন্য সেরা ৬টি দেশ
ভিডিওটিতে উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে নিচে সেই ৬টি দেশের তালিকা এবং তাদের ভিসা পাওয়ার কারণগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
১. নেদারল্যান্ডস (Netherlands)
শিক্ষার্থীদের জন্য নেদারল্যান্ডস বর্তমান সময়ে অন্যতম সেরা গন্তব্য। এখানে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া তুলনামূলক সহজ।
-
কেন সহজ: এখানে প্রচুর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট নেওয়া হয় এবং ভিসার সাকসেস রেটও ভালো।
-
যোগ্যতা: সাধারণত IELTS-এ ৬.৫ স্কোর থাকলে আপনি খুব সহজেই নেদারল্যান্ডসে পড়াশোনার জন্য আবেদন করতে পারেন।
২. মাল্টা (Malta)
শেনজেন কান্ট্রি হিসেবে মাল্টা এখন বাংলাদেশী এবং ভারতীয়দের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
-
সুযোগ: মাল্টাতে প্রচুর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা (Work Permit Visa) ইস্যু হচ্ছে। এছাড়া স্টুডেন্ট ভিসাতেও যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
-
শেনজেন সুবিধা: মাল্টা শেনজেনভুক্ত দেশ হওয়ায়, এখানকার ভিসা থাকলে আপনি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ভ্রমণ করতে পারবেন।
৩. হাঙ্গেরি (Hungary)
মধ্য ইউরোপের এই দেশটি স্কলারশিপ এবং ওয়ার্ক ভিসার জন্য পরিচিত।
-
স্কলারশিপ: বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রচুর শিক্ষার্থী সরকারি স্কলারশিপ নিয়ে হাঙ্গেরি যাচ্ছে।
-
চাকরির সুযোগ: ২০১৯ সালের পর থেকে হাঙ্গেরিতে কাজের ভিসার হার বেড়েছে। যদিও এখানে বেতন পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় কিছুটা কম, তবুও ইউরোপে প্রবেশের জন্য এটি একটি চমৎকার রুট।
৪. লিথুনিয়া এবং লাটভিয়া (Lithuania & Latvia)
বাল্টিক অঞ্চলের এই দুটি দেশকে একসাথে রাখা হয়েছে কারণ এদের ভিসা পলিসি অনেকটা একই রকম।
-
শিক্ষার সুযোগ: এই দেশগুলোতে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া বেশ সহজ। পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে পার্ট-টাইম কাজের সুযোগও থাকে।
-
ওয়ার্ক ভিসা: পড়াশোনা শেষ করার পর বা সরাসরি জব ভিসাতেও বাংলাদেশ থেকে অনেকে এই দেশগুলোতে যাচ্ছেন।
৫. ফ্রান্স (France)
অনেকের ধারণা ফ্রান্সের ভিসা পাওয়া কঠিন, কিন্তু ভিডিওর তথ্যমতে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ফ্রান্সের ভিসা পাওয়া সম্ভব।
-
জব ভিসা: ফ্রান্সে জব ভিসার ক্ষেত্রে রিজেকশন রেট বা প্রত্যাখ্যানের হার তুলনামূলক কম।
-
স্টুডেন্ট ভিসা: সঠিক প্রোফাইল এবং ল্যাঙ্গুয়েজ দক্ষতা থাকলে ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া এখন অনেক সহজ।
৬. পর্তুগাল (Portugal)
পর্তুগালকে অভিবাসীদের জন্য “গোল্ডেন কান্ট্রি” বলা হয়। বর্তমানে ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে সহজে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে পর্তুগাল।
-
কাজের ধরণ: এখানে এগ্রিকালচার বা ফার্মিং সেক্টরে প্রচুর জব ভিসা দেওয়া হয়।
-
ভবিষ্যৎ নাগরিকত্ব: পর্তুগালে বৈধভাবে নির্দিষ্ট সময় বসবাস করার পর নাগরিকত্ব বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি পাওয়া অন্যান্য দেশের তুলনায় সহজ। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আইইলটিএস (IELTS) থাকলে ভিসা পাওয়া আরও সহজ হয়।
শেষ কথা ও পরামর্শ
“কোন দেশের ভিসা সহজে পাওয়া যায়”—এই প্রশ্নের উত্তরটি সবসময় আপনার যোগ্যতা, নথিপত্র এবং বর্তমান ভিসা পলিসির ওপর নির্ভর করে। উপরে উল্লেখিত দেশগুলোতে আবেদনের আগে অবশ্যই সেই দেশের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে লেটেস্ট রিকোয়ারমেন্টগুলো দেখে নেবেন। ইউরোপের স্বপ্ন পূরণে এই ৬টি দেশ হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ।
বিঃদ্রঃ ভিসা পলিসি পরিবর্তনশীল। আবেদন করার আগে একজন অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া বা অফিসিয়াল সোর্স যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ।
আমি একটি প্রাইভেট ভিসা প্রসেসিং কোম্পানিতে জব করি। পাশাপাশি এই ব্লগটিতে লেখালেখি করি। আমি ব্রাক ইউনিভার্সিটে থেকে এমবিএ করেছি।